ব্রেকিং:
মাওলানা ত্বহার হোয়াটসঅ্যাপ-ভাইভার অন; বন্ধ মোবাইল ফোন কে এই মাওলানা ত্বহার ২য় স্ত্রী সাবিকুন নাহার? আওয়ামীলীগের ধর্মীয় উন্নয়নকে ব্যাহত করতে ত্বহা ষড়যন্ত্র স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে প্রতারণা ফেনীতে করোনার নমুনা সংগ্রহ করবে স্বাস্থ্যকর্মীরা ফেনীর বিভিন্নস্থানে মোবাইল কোটের অভিযান : ১৪ জনের দন্ড ফেনীতে কৃষকের ধান কেটে বাড়ি পৌছে দিয়েছে ছাত্রলীগ করোনার তাণ্ডবে প্রাণ গেল ২ লাখ ১১ হাজার মানুষের ফেনীর ৭ সরকারি কলেজের একদিনের বেতন ত্রাণ তহবিলে ফেনী ধলিয়ায় গ্রাম পুলিশের বাড়িতে হামলা, আহত ২ মানসম্মত কোন ধাপ অতিক্রম করেনি গণস্বাস্থ্যের কিট পরিস্থিতি ঠিক না হলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সব স্কুল-কলেজ বন্ধ আপনিকি করোনা পরীক্ষায় গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের কিট ব্যবহারের বিপক্ষে? ফেনীতে বাড়তি দামে পণ্য বেচায় ৭ দোকানের জরিমানা দেশে করোনায় আক্রান্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার, একদিনে মৃত্যু ৫ যুক্তরাষ্ট্রে করোনা জয় করলেন ১ লাখেরও বেশি মানুষ ফেনীতে গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ফেনী শহরে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের প্রধানমন্ত্রীর উপহার প্রদান ফেনীতে ডাক্তারদের সুরক্ষা ও রোগীদের চিকিৎসা সামগ্রী দিয়েছে বিএমএ করোনায় মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৯২ হাজার ছাড়ালো
  • মঙ্গলবার   ২৭ জুলাই ২০২১ ||

  • শ্রাবণ ১২ ১৪২৮

  • || ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

মা আমার ক্ষুধা লেগেছে, তুমি কোথায়?

ফেনীর হালচাল

প্রকাশিত: ৫ মার্চ ২০২০  

ছেলেটির মাত্র নয় বছর বয়স। সবাই তাকে ভলু নামেই চেনে। পরনে তার ছেঁড়া একটি জামা। খালি পায়ে ছোট দুটি পায়ে সে হেঁটে বেড়ায় রাস্তায়। একটু খাবারের আশায় হাত পাতে মানুষের দ্বারে। দিল্লীর বিজয়নগরের এক বস্তিতে ছোট্ট ছেলেটির বসবাস।

একদিন ক্ষুদায় সে কাতরাচ্ছে আর রাস্তা দিয়ে হাঁটছে। হঠাৎই সে দেখল, রাস্তার পাশের এক দোকানে সিঙারা ভাঁজছে। ভলু সেই দোকানদারকে গিয়ে বলল, কাকু কাল থেকে কিছুই খাইনি, একটা সিঙারা দাও না! দোকানদার ক্ষেপে গিয়ে বলে উঠলেন, মেরে তোর হাত-পা ভেঙে দিব। ভিখিরী কোথাকার। দূর হ। ভলু তো ভয়ে দুই পা পিছিয়ে গেল ঠিকই কিন্তু তার নজর রইল সিঙারার উপর। 

 

সিঙারার জন্য হাত পেতেছিল ভলু

সিঙারার জন্য হাত পেতেছিল ভলু

কিছুক্ষণ পর দোকানদার তার নিজ কাজে ব্যস্ত পড়লেন। এবার ক্ষুধার জ্বালায় ভলু সাহস করে পাশে থাকা প্লেট থেকে একটা সিঙারা তুলে নেয়। দোকানদারের নজর এড়ালো না বিষয়টি। ভয়ানক রেগে গিয়ে তিনি চিৎকার করে উঠলেন, চোর কোথাকার, এত সাহস হয় কী করে তোর? গর্জে উঠে ভলুর হাত মুচড়িয়ে দেয় তিনি। ভলু মিনতি করে বলল, আমি চুরি করিনি, সিঙ্গারায় কেবল হাত দিয়েছিলাম। ওহ মা…আমার হাত, বলে যন্ত্রণায় ডুকরে কেঁদে ওঠে ছোট্ট ভলু।

একে তো ক্ষুধার যন্ত্রণা অন্যদিকে হাতের ব্যথায় মুষড়ে পড়ল ভলু। ছোট্ট দুই হাতে মাথা ঢেকে রাস্তাতেই বসে পড়ল সে। অন্যদিকে নিষ্ঠুর দোকানদার তাকে ইচ্ছেমতো মেরেই যাচ্ছে। মার খেতে খেতে ভলুর চারিদিক যেন অন্ধকার হয়ে গেল। মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছে। পিঠে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন। সম্ভবত ভলুর হাতটাও ভেঙে গেছে। তীব্র যন্ত্রণায় কেঁদে উঠে শরীরের শেষ শক্তিটুকু দিয়ে দৌঁড়াতে থাকে ভলু।

বস্তির এক ছোট্ট ঘরে থাকে ভলু। নোংরা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যেই সে বড় হয়ে উঠছে। সরু সরু গলি ঘুপচির মধ্যে দু’জন মানুষ পর্যন্ত পাশাপাশি হেঁটে যেতে পারবে না। সেই পথ দিয়েই ভলু দৌঁড়ে চলেছে। একটা ছাদের তলায় এসে ভলু থামলো। এটাই নাকি এই ছোট্ট ছেলেটির ঘর। পুরোনো জীর্ণ একটা প্লাস্টিকের চেয়ারের ওপর দাঁড়িয়ে পড়ল ভলু।

 

ক্ষুধার্ত ভলু!

ক্ষুধার্ত ভলু!

দেয়ালে টাঙানো মায়ের হাসিমুখের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে ভলু অঝোরে কাঁদতে থাকে। মা তুমি কোথায়? আমার খুব ক্ষিদে পেয়েছে। মা, তুমি জানো, ওই দোকানদারটার কাছে একটা সিঙারা চেয়েছিলাম বলে আমার হাত ভেঙে দিয়েছে। বলেছে আমি নাকি চোর। আমাকে খুব মেরেছে, মা। তুমি তো আমাকে সবসময় বলতে আমি ঠিক মতো খাবার না খেলে, তুমি চলে যাবে। আমি কথা দিচ্ছি তুমি যা বলবে সব করবো, যা খেতে দেবে সব খাবো। তুমি ফিরে এসো মা।

এবার ভলুর সেই ছোট্ট ঘরে এক নারীর আগমন ঘটে। তার নাম মিসেস জেব্রিয়ানা ডিসুজা। তিনি একজন সমাজ সেবিকা। তিনি ভলুর কাছে তারা বাবা মা সম্পর্কে জানতে চাইলেন। ভলু তার সঙ্গে কথা না বলে অঝোরে কেঁদেই চলেছে। ভলুর মুখে রক্ত লেগে থাকতে দেখে মিসেস ডিসুজা তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর ডাক্তার ভলুর হাতে প্লাস্টার করে দিলেন। অতঃপর ভলুর জীবন সম্পর্কে সবকিছু জানতে পারলেন মিসেস ডিসুজা। এক মাতৃস্নেহে যেন তার হৃদয় উদ্বেলিত হয়ে ওঠে।

তিনি ভলুকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি পড়াশোনা করবে? ভলু মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়। এরপর সে বলে উঠে, আর খাবার? মিসেস ডিসুজা বললেন, আর খাবার নিয়ে চিন্তা করতে হবে না। শুধু মন দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। তিনি ভলুকে বললেন, আমাকে এখন থেকে মা বলে ডেকো। ভলু অনায়াসেই বলে উঠল, ঠিকাছে মা। 

 

বর্তমানে ভলু ও তার চশমার ব্যান্ড

বর্তমানে ভলু ও তার চশমার ব্যান্ড

ভলু আর বস্তির ছেলে নেই। কনভেন্ট স্কুল থেকে পড়াশোনা করে সে উচ্চশিক্ষার জন্য লন্ডনে পারি দেয়। ভলু এখন একজন উচ্চশিক্ষিত যুবক। লন্ডন থেকে ফিরে এসে সে চশমার একটি নতুন ব্র্যান্ডের প্রতিষ্ঠা করে। তার নতুন মা, হয়তো সাক্ষাৎ ভগবান, তার নাম অনুযায়ী সে তার ব্র্যান্ডের নামকরণ করে জেব্রিয়ানা। 

বর্তমানে অতিরিক্তি মোবাইল আর ল্যাপটপ ব্যবহারের ফলে চোখে যে অতিরিক্ত প্রেসার পরে, তা রোধ করতে এই ব্র্যান্ডের চশমার জুড়ি মেলা ভার। তিনি এখন এস বি ভাস্কর। তার নাম ডাক হয়েছে। তবে তিনি আজো ভুলেননি সেই বস্তিবাসীদের। তাদের জন্য ভলু আজো নিবেদিন প্রাণ। অসহায় মানুষদের জন্য সে কাজ করছে।

ভলুর মায়ের সেই ছবিটা আজো তার অফিসের দেয়ালে সুন্দর ভাবে টাঙানো আছে। তার কেবিনে চেয়ারের ঠিক পেছনটাতে। তবে আজ আর মায়ের মুখে সেই অসহায়ের হাসিটা নেই। বরং তার চোখে মুখে গর্বের যে উজ্জ্বল হাসিটা দেখা যাচ্ছে তা পরিমাপ করা সম্ভব নয় কোনোভাবেই। মায়ের কাছে মিস্টার ভাস্কর আজো সেই ছোট্ট ভলু। 

ফেনীর হালচাল
ফেনীর হালচাল