ব্রেকিং:
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে প্রতারণা ফেনীতে করোনার নমুনা সংগ্রহ করবে স্বাস্থ্যকর্মীরা ফেনীর বিভিন্নস্থানে মোবাইল কোটের অভিযান : ১৪ জনের দন্ড ফেনীতে কৃষকের ধান কেটে বাড়ি পৌছে দিয়েছে ছাত্রলীগ করোনার তাণ্ডবে প্রাণ গেল ২ লাখ ১১ হাজার মানুষের ফেনীর ৭ সরকারি কলেজের একদিনের বেতন ত্রাণ তহবিলে ফেনী ধলিয়ায় গ্রাম পুলিশের বাড়িতে হামলা, আহত ২ মানসম্মত কোন ধাপ অতিক্রম করেনি গণস্বাস্থ্যের কিট পরিস্থিতি ঠিক না হলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সব স্কুল-কলেজ বন্ধ আপনিকি করোনা পরীক্ষায় গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের কিট ব্যবহারের বিপক্ষে? ফেনীতে বাড়তি দামে পণ্য বেচায় ৭ দোকানের জরিমানা দেশে করোনায় আক্রান্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার, একদিনে মৃত্যু ৫ যুক্তরাষ্ট্রে করোনা জয় করলেন ১ লাখেরও বেশি মানুষ ফেনীতে গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ফেনী শহরে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের প্রধানমন্ত্রীর উপহার প্রদান ফেনীতে ডাক্তারদের সুরক্ষা ও রোগীদের চিকিৎসা সামগ্রী দিয়েছে বিএমএ করোনায় মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৯২ হাজার ছাড়ালো ফেনীতে ৩ হাজার ঈমাম-মুয়াজ্জিনকে ইফতার সামগ্রী দিলেন নিজাম হাজারী রাতে ধান কাটতে হাওরে ডিসি-ইউএনও রমজানের শুভেচ্ছা জানালেন ট্রাম্প
  • সোমবার   ৩০ নভেম্বর ২০২০ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৭

  • || ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

৮৭

ক্ষুদ্র ও ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য নীতিমালা জারি

ফেনীর হালচাল

প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০২০  

কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই ঘোষণার আলোকেই এসব ব্যবসায়ীদের জন্য একটি নীতিমালা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। 

সোমবার এই নীতিমালাটি দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার যে প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে; সেখান থেকে মূলধনবাবদ ঋণ পাওয়া-না পাওয়া নির্ভর করবে ব্যাংক ও গ্রাহক সম্পর্কের ওপর।

নীতিমালাতে আরো বলা হয় , কোনো তফসিলি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৩১ ডিসেম্বর তারিখ ভিত্তিক কটেজ, মাইক্রো, স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ (সিএমএসএমই) ঋণস্থিতির সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ এক অর্থবছরে এই প্যাকেজের আওতায় চলতি মূলধন হিসেবে ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা দিতে পারবে। যেহেতু আলোচ্য প্যাকেজের আওতায় মোট তহবিলের পরিমাণ নির্ধারিত রয়েছে, এ কারণে প্রত্যেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ সীমার বিষয়ে এ সার্কুলার জারির তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্টকে অবহিত করবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনে এই সীমা বাড়াতে বা কমাতে পারবে। নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত হলে সীমাতিরিক্ত ঋণের ওপর সরকার থেকে ভর্তুকি পাবে না।

এই ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে সিএমএসএমই খাতের উৎপাদন ও সেবা উপখাতকে প্রাধান্য দেয়া হবে। তবে, ব্যবসা বা ট্রেড-ভিত্তিক মাইক্রো ও ক্ষুদ্র শিল্প এ সুবিধার আওতাভুক্ত হবে। এই প্যাকেজের আওতায় উৎপাদন, সেবা ও ব্যবসা (ট্রেড) উপখাতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের বার্ষিক মোট ঋণের আনুপাতিক হার হবে যথাক্রমে ৫০, ৩০ ও ২০ শতাংশ।

নির্দেশনায় বলা হয়, বার্ষিক মোট ঋণের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ গ্রাম অঞ্চলে বিতরণ করতে হবে। মোট ঋণের ন্যূনতম ৭০ শতাংশ কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র শিল্প খাতে এবং অবশিষ্ট ৩০ শতাংশ মাঝারি শিল্প খাতে প্রদান করা যাবে। বার্ষিক মোট ঋণের ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী উদ্যোক্তাদের দিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এ প্যাকেজের মেয়াদ হবে ৩ বছর। কোনও একক উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ এক বছর এ প্যাকেজের আওতায় সরকার হতে ভর্তুকি পাবে।

শুধু করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমন কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তা এই সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন। তবে ঋণ খেলাপিরা এই সুবিধা পাবেন না। কোনও ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের কোনো ঋণ মন্দ বা ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকৃত হওয়ার পর, এরআগে তিনবারের বেশি পুনঃতফসিলকৃত হলে এরূপ ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান এ প্যাকেজের আওতায় ঋণ সুবিধা পাবে না।

কুটির ও মাইক্রো শিল্পে নতুনভাবে ঋণ নেয়ার জন্য আবেদনকারী (যাদের নামে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কোনো ঋণ নেই, তবে যারা এত দিন নিজস্ব পুঁজি দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের সুবিধা নিতে আগ্রহী) এবং বিদ্যমান ঋণগ্রহীতা উভয়ের ক্ষেত্রেই সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরের আর্থিক বিবরণী (ঋণ গ্রহণের সময় সর্বশেষ হিসাব বছর শেষ হওয়ার ছয় মাস অতিবাহিত না হলে পূর্ববর্তী হিসাব বছরের আর্থিক বিবরণী) অথবা বিগত বছরের (এক বা একাধিক) উৎপাদন/বিক্রি/টার্নওভারের লিখিত হিসাব থাকা সাপেক্ষে এ ঋণ বা বিনিয়োগ সুবিধা দেয়া যাবে।

সার্কুলারে বলা হয়, কেবল করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত সিএমএসএমই খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে চলতি মূলধনের চাহিদার বিপরীতে এ প্যাকেজের আওতায় ঋণ ব্যবহার করা যাবে। এ প্যাকেজের আওতায় গৃহীত ঋণ দিয়ে বিদ্যমান কোনো ঋণ হিসাব সমন্বয় বা পরিশোধ করা যাবে না। বিএমআরই-সহ ব্যবসা সম্প্রসারণ বা নতুন কোনো ব্যবসা চালুর জন্য এ ঋণ ব্যবহার করা যাবে না।

ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের বিগত জানুয়ারি থেকে পরবর্তী মাসসমূহের উৎপাদনের বা বিক্রয়ের নিম্নমুখীতা যথাযথভাবে নিরূপণরত: বিগত বছরের (এক বা একাধিক) উৎপাদন/বিক্রি/টার্নওভারের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় চলতি মূলধনের পরিমাণ হিসাব করতে হবে।

উৎপাদন ও সেবা শিল্পের সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তা; যারা আগে ব্যাংক থেকে চলতি মূলধন ঋণ নিয়েছেন- সে সব ঋণ গ্রহীতারা বিদ্যমান চলতি মূলধন ঋণ স্থিতির ৩০ শতাংশ বা সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরসহ বিগত তিন বছরের আর্থিক বিবরণীতে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, গড় পরিচালন ব্যয়ের ৫০ শতাংশ- এ দুটির মধ্যে যেটি কম, সেই পরিমাণ চলতি মূলধন সুবিধা পেতে পারেন।

ট্রেডিং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তা; যারা এর আগে  ব্যাংক থেকে চলতি মূলধন ঋণ নিয়েছেন, তারা সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরসহ বিগত তিন বছরের আর্থিক বিবরণীতে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, গড় বার্ষিক টার্নওভার বিবেচনায় নিয়ে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত চলতি মূলধন সুবিধা পেতে পারেন। তবে তা এক কোটি টাকার বেশি হতে পারবে না। নতুন ঋণের ক্ষেত্রে (যাদের নামে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কোনো ঋণ নেই, তবে যারা এতদিন ধরে নিজস্ব পুঁজি দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন, কিন্তু বর্তমানে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ বা বিনিয়োগের সুবিধা নিতে আগ্রহী) ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় চলতি মূলধন ঋণ বা বিনিয়োগের প্রাপ্যতা সীমা নির্ধারিত হবে। 

তবে, উক্ত সীমা সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরসহ বিগত তিন বছরের (যদি থাকে) আর্থিক বিবরণীতে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী উৎপাদন ও সেবা শিল্পের প্রাপ্যতার সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ অথবা বিগত বছরের (এক বা একাধিক) উৎপাদন/বিক্রি/টার্নওভারের ৫০ শতাংশ- এ দুটির মধ্যে যেটি কম সেই পরিমাণ। ট্রেডিং ব্যবসার ক্ষেত্রে ঋণ বা বিনিয়োগের পরিমাণ বার্ষিক টার্নওভারের ২৫ শতাংশের মধ্যে, তবে তা এক কোটি টাকার বেশি হতে পারবে না।

বিনিয়োগকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ ব্যবস্থায় শিল্প উদ্যোগের উৎপাদন ও টার্নওভার বিষয়ে নিয়মিত সব দলিলাদি সংরক্ষণ করবে এবং তা পর্যবেক্ষণে রাখবে। আলোচ্য প্যাকেজের আওতায় কোনো ঋণ নবায়ন করা যাবে না। তবে, পরবর্তীতে ঋণ গ্রহীতার ব্যবসায়িক লেনদেন সন্তোষজনক হলে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ঋণ নীতিমালার আওতায় তা নবায়ন করতে পারে; সে ক্ষেত্রে, পরবর্তী সময়ের জন্য সরকারের কাছ থেকে সুদ বা মুনাফাবাবদ কোনো ভর্তুকি দেয়া হবে না।

নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে, এ ঋণের সুদ হার হবে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ। এর মধ্যে ৪ শতাংশ ঋণগ্রহীতা পরিশোধ করবেন এবং অবশিষ্ট ৫ শতাংশ সরকার ভর্তুকি হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করবে।

ঋণের ওপর সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ হারে সুদ আরোপিত হলেও সরকার থেকে প্রাপ্য ভর্তুকির সমপরিমাণ অর্থ ঋণগ্রহীতার দায় হিসেবে বিবেচিত হবে না। তবে, ঋণের সুদ (৪ শতাংশ) নিয়মানুযায়ী যথাসময়ে পরিশোধিত না হলে সমুদয় আরোপিত সুদ ঋণগ্রহীতার দায় হিসেবে বিবেচিত হবে। 

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, উল্লেখিত শিডিউল অব চার্জেস ছাড়া অন্য কোনো চার্জ বা ফি আরোপ করা যাবে না। কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ঋণের ওপর অন্য কোনো প্রকার অদৃশ্য ফি আরোপ করা হলে, সে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবে।

এ প্যাকেজের আওতায় তফসিলি ব্যাংকের ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের নিজস্ব ঋণ বা বিনিয়োগ নীতিমালা অনুযায়ী ঋণ বা বিনিয়োগ অনুমোদিত হতে হবে। এ ক্ষেত্রে, ছোট ছোট ঋণ বা বিনিয়োগ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার প্রয়োজনে ঋণ বা বিনিয়োগে অনুমোদনের ক্ষমতা শাখাপর্যায়ে অর্পণ বা পুনর্বন্টন করা যেতে পারে। 

প্রত্যেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আলোচ্য প্যাকেজের আওতায় চলতি মূলধন ঋণ বিতরণের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এর ‘এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট’-এ প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে পূর্ববর্তী মাসে অনুমোদিত ও বিতরণকৃত ঋণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সরবরাহ করবে। তথ্য যাচাই এর প্রয়োজনে ‘এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট’ সংশিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ঋণ সংক্রান্ত দলিলাদি সরবরাহের অনুরোধ করতে এবং শাখা বা মাঠপর্যায়ে নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করা না হলে সংশ্লিষ্ট ঋণ প্রণোদনা আলোচ্য প্যাকেজ থেকে বাতিল করা হতে পারে। ঋণ সুবিধা বিষয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে কোনো ভুল তথ্য সরবরাহ করা হলে ওই ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এই প্যাকেজের আওতায় কোনো সুদ বা ভর্তুকি সুবিধা পাবে না। উপরন্তু এর জন্য বিতরণকৃত ঋণের ওপর শতাংশ হারে জরিমানা আরোপ করা হবে।

ফেনীর হালচাল
ফেনীর হালচাল
অর্থনীতি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর